সৌদি আরবের লক্ষ্য ১০০ বিলিয়ন ডলার এফডিআই

চলতি দশকের শেষ নাগাদ ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে সৌদি আরব।

চলতি দশকের শেষ নাগাদ ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে সৌদি আরব। বিশেষজ্ঞরা বলছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এমন খাত বিকাশে বিনিয়োগ সংগ্রহের দিকেই এখন দেশটির মূল মনোযোগ। এর মধ্যে রয়েছে খনিজ, হালনাগাদ প্রযুক্তি ও বিনোদন খাত। খবর আরব নিউজ।

জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে মনোযোগী হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম এ অর্থনীতি। ২০৩০ সাল নাগাদ জিডিপিতে এফডিআইয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য হারে উন্নীত করতে আগ্রহী দেশটির নীতিনির্ধারকরা। এরই মধ্যে নীতি সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব।

মার্কিন ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট ফার্ম অলিভার ওয়াইম্যানের ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক ইনস্টিটিউশনস প্র্যাকটিস বিভাগের অংশীদার এমিলিও এল-আস্মারের মতে, সৌদি আরবের খনিজ খাত এফডিআই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে একটি।

তিনি বলেন, ‘খনিজ ও ধাতু খাতের মধ্যে রয়েছে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ, যার অন্যতম স্বর্ণ, তামা, লিথিয়াম ও দুষ্প্রাপ্য খনিজ উপাদান, যা জ্বালানি রূপান্তর এবং বৈশ্বিক শিল্পের জন্য অপরিহার্য।’

এমন সময় মন্তব্যটি এল, যখন খনিজ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন একটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে সৌদি আরব।

পরামর্শক সংস্থা আর্থার ডি লিটলের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অংশীদার রায়ান আলনেসায়ান বলেন, ‘নতুন খনিজ আইন ও অনুসন্ধান প্রণোদনা প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে এবং সৌদি আরবকে একটি বৈশ্বিক খনিজ কেন্দ্রে পরিণত করছে।’

অন্যদিকে এল-আস্মার জানান, রাস আল-খায়ের ও ওয়াআদ আল-শামাল অঞ্চলে সমন্বিত অবকাঠামো, রেল ও বন্দর সংযোগ এবং ডাউনস্ট্রিম প্রসেসিংয়ের মেলবন্ধন ঘটেছে, যা অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইনগুলো নিরাপদ খনিজ উৎস খুঁজছে এবং সৌদি আরব এর উত্তম সমাধান। ভূরাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সম্ভাবনা ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ দেয় দেশটি। আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে সৌদি আরব আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির বাজারে প্রবেশাধিকার দেয়।’

গত জানুয়ারিতে ফিউচার মিনারেলস ফোরামে সৌদি আরবের শিল্প ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী বান্দার আলখোরাইফ জানান, ২০২৫ সালে পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটার খনিজ বেল্টে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গত এপ্রিলে প্রকাশিত পরামর্শক সংস্থা কিয়ারনির ২০২৫ সালের এফডিআই কনফিডেন্স ইনডেক্সে সৌদি আরব এক ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সৌদি আরবে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৫৮৯ কোটি ডলার, যা সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

এল-আস্মার বলেন, ‘‌খনিজের পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োটেকনোলজি ও পেট্রোকেমিক্যালস খাতেও সৌদি আরব বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে। পেট্রোকেমিক্যাল খাতে সৌদি আরব এখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল থেকে উচ্চ প্রযুক্তির কেমিক্যালস, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’

অন্য খাতগুলো সম্পর্কে রায়ান আলনেসায়ান বলেন, ‘বিনোদন ও প্রযুক্তি সৌদি আরবের নতুন প্রবৃদ্ধির গল্প বলছে। গেমিং, ডিজিটাল মিডিয়া, স্মার্ট সিটি ও এআইয়ে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ হচ্ছে। এসব খাত চাকরির সুযোগ, উদ্ভাবন ও গতিশীল বাজার তৈরি করছে।’

এল-আস্মার বলেন, ‘সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যা ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার চাহিদা বাড়ার কারণে সিনেমা, থিম পার্ক, লাইভ ইভেন্ট এবং কনটেন্ট প্রডাকশনে বিনিয়োগ বাড়ছে।’

এতসব অগ্রগতির মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রায়ান আলনেসায়ান বলেন, ‘‌বৈশ্বিক অস্থিরতা, দক্ষ জনশক্তির অভাব ও নীতিগত স্পষ্টতার প্রয়োজন রয়ে গেছে সৌদি আরবে।’

আরও